তামান্না আক্তার হাসিঃ কার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এক কিশোরীকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু, ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন এবং স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত মো. রানা হাওলাদার (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটিত হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৭ জুলাই ২০২৬ দুপুরে নিহত কিশোরী মোসা. তানজিলা (১৭) বাড়ি থেকে বের হয়ে আত্মীয়ের বাসায় যান। পরে বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মনিনগর মাদ্রাসা ও মসজিদের পাশের একটি ঝোপ থেকে গলাকাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর নিহতের মা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি ঢাকা জেলা ইউনিট।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, অভিযুক্ত রানা হাওলাদারের সঙ্গে নিহত তানজিলার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তানজিলা রানার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন রানা কৌশলে তানজিলাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গ্রেপ্তারের পর আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, ভুক্তভোগীর দুটি স্মার্টফোন এবং স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এবং পরে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
সিআইডি জানিয়েছে, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের তদন্তের সমন্বয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।