তাছলিমা তমাঃ দেশে ভূমিকম্পের প্রকট সতর্কবার্তা জারি থাকলেও রাজধানী দক্ষিনখান দক্ষিণ আজমপুর হাওয়াই রোডে এলাকায় ভবন নির্মাণে অনিয়ম যেন থামছেই না। দক্ষিণখান থানার দক্ষিনখান দক্ষিণ আজমপুর হাওয়াই রোডে রাজউকের নিয়ম-কানুন প্রকাশ্যে উপেক্ষা করে বহুতল ভবন নির্মাণের ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিনখান দক্ষিণ আজমপুর হাওয়াই রোডে আলমগীর গং নিজেদের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রাজউকের অনুমোদিত নকশা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী ভবন নির্মাণে কমপক্ষে ৩০% জায়গা খালি রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রথম তলা পর্যন্ত পুরো জমি দখল করে নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
📌 একাধিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
নির্মাণকাজে স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে—বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট-১৯৫২, টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩, ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC)-২০২০, অভিযোগ রয়েছে, এসব আইন জেনেশুনেই লঙ্ঘন করছেন আলমগীর গং। এমনকি তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেন, রাজউকের সঙ্গে যোগসাজশ থাকায় নির্বিঘ্নে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
📌 সরেজমিনে ভয়াবহ চিত্র
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজের তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই সেফটি নেট কিংবা শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। রাজউকের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হলেও তা প্রকাশ্যেই অমান্য করা হচ্ছে।
📌 ভবন মালিকের চ্যালেঞ্জ
এ বিষয়ে ভবন মালিক আলমগীর বলেন,“প্রথম তলার কাজ শেষ করে দ্বিতীয় তলার কাজ করছি। প্রতিদিনই রাজউকের ইন্সপেক্টর আসে। যোগসাজশ না থাকলে কি আমি এতদূর কাজ করতে পারতাম? নিউজ করতে পারেন, দেখুন আমার কিছু করতে পারেন কিনা।”
এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরে আর ফোন রিসিভ করেননি।
📌 রাজউকের জোনাল ইন্সপেক্টরের বক্তব্য
রাজউকের জোনাল ইন্সপেক্টর জানান মালিক পক্ষের বক্তব্য ভিত্তিহীন, মালিকপক্ষকে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় নোটিশ করা হয়েছে। এখনো অনুমোদিত নকশা আমাকে দেখায়নি। মালিকপক্ষ সাড়া না দিলে আইনগত নোটিশ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে রাজউকের মোবাইল কোর্ট যে কোনো সময় ভবনটিতে অভিযান পরিচালনা করবে।
⚠️ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে ভয়াবহ হুমকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে নকশাবহির্ভূত ভবন যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। এতে ভবনের বাসিন্দা, শ্রমিক এবং আশপাশের সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।