তাছলিমা তমাঃ ঢাকার আশুলিয়ায় আলোচিত ফয়সাল মোল্লা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে দ্রুত সফলতা দেখিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই ঢাকা জেলার তথ্য অনুযায়ী, আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া এলাকায় গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ফয়সাল মোল্লা (৩৫)-কে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. বিপ্লব হাসান বিপু (২৮), মো. মাসুদ (৩৪)সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে আত্মগোপনে গেলে ১৯ এপ্রিল পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটি অধিগ্রহণ করে এবং তদন্ত শুরু করে। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদের তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯ ও ২০ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মো. বিপ্লব হাসান বিপুকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ এপ্রিল সকালে আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া এলাকায় একটি নার্সারির কাঁঠাল গাছের নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছেনি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত ফয়সাল ও গ্রেফতারকৃত বিপু এবং অপর আসামি মাসুদ দূর সম্পর্কের আত্মীয়। দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার দিন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ফয়সালকে ডেকে এনে প্রথমে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়, পরে ছেনি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে আসামিরা পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে সোপর্দ করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। এদিকে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি এবং দ্রুততম সময়ে আসামি শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এতে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।”