নঈমুল আলমঃ ২৫ ডিসেম্বর (রবিবার)খুলনা মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী রায়েরমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিদ্যালয়ের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে স্মৃতি, আবেগ ও ভালোবাসায় ভরে ওঠে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
সকাল ১০টায় বিদ্যালয় চত্বর থেকে ঘোড়া, মোটরসাইকেল, পিকআপ, প্রাইভেটকার, ভ্যান ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনের সমন্বয়ে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি রায়েরমহল এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয় মাঠে এসে শেষ হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন প্ল্যাকার্ড। আনন্দঘন স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবের রূপ নেয়।
র্যালি শেষে বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। এতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসা. আফসা বেগম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব, খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোঃ এনামুল হক, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা রায়েরমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান, বিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এবং শিক্ষাজীবনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো তুলে ধরেন।
স্মৃতিচারণ পর্বে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁদের স্কুল জীবনের আনন্দ-কষ্ট, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো দিন এবং শিক্ষকদের স্নেহ ও শাসনের কথা আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করেন। অনেকের চোখে আবেগের অশ্রু দেখা যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিন আক্তার বলেন,
“এই প্রতিষ্ঠানের ৬৩ বছরের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে আজ প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাবেক প্রধান শিক্ষক, সাবেক সভাপতিসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থীরাও আজ এখানে মিলিত হয়েছেন। এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনব্যাপী এই আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় সবাই স্মৃতির পাতায় ফিরে যান এবং আনন্দ ভাগাভাগিতে মেতে ওঠেন।আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই পুনর্মিলনী প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করবে এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে।
সবশেষে উপস্থিত সবাই একমত পোষণ করেন—দিনব্যাপী এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান রায়েরমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ও গৌরবময় অধ্যায় হয়ে থাকবে।