তামান্না আক্তারঃ বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রক্ষার সংগ্রামে যে অল্প কয়েকজন নেতার নাম সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে উচ্চারিত হয়, তাঁদের অন্যতম সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি ধাপেই তিনি রেখে গেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
১৯৮১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় রাজনীতিতে যোগ দেন বেগম জিয়া। সে সময় সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে তিনি দ্রুতই জনআস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন। বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দলকে সংগঠিত ও সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৯১ সালে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ
স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থনে দেশের প্রথম নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। জাতীয় সংসদীয় সরকার পুনর্বহাল ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
২০০১ সালের জনআস্থা ও পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ
২০০১ সালে আবারও তুমুল সমর্থনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান তিনি। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সরকারের দৃশ্যমান সাফল্য ব্যাপক আলোচিত হয়।
সংগ্রাম, কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়ন
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে ২০১৮ সালে পুনরায় বিচারিক হয়রানির শিকার হয়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিচারিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে থাকলেও তার নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তা জনমনে অটুট রয়েছে।
দলীয় চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি সবসময় তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব বিকাশে ভূমিকা রেখে গেছেন এবং প্রতিটি আন্দোলনে গণমানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়েছেন।
গণতন্ত্রের জন্য এক আজীবন লড়াই
অসুস্থতা ও বাধা-বিপত্তির মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতীক হয়ে আছেন। তার রাজনৈতিক যাত্রা নতুন প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও আদর্শিক দৃঢ়তার অনুপ্রেরণা।