গাজীপুরে চলছে জমজমাট প্রচার-প্রচারণা, আলোচনার কেন্দ্রে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ি থানাধীন ১১নং ওয়ার্ডের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঘিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এখন নির্বাচনী আমেজে মুখর। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে অবৈতনিকভাবে শিক্ষা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও সুনাম রক্ষায় আগামী ২ নভেম্বর (রবিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে পুরো এলাকাজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
নির্বাচনে পুরুষ অভিভাবক প্রতিনিধি পদে ৪টি পদের বিপরীতে ৯ জন এবং মহিলা অভিভাবক প্রতিনিধি পদে ১টি পদের বিপরীতে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার সংখ্যা ৭৮৪ জন। তবে একজন অভিভাবকের একাধিক সন্তান বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত থাকলেও তার ভোটাধিকার একটিই থাকবে।
দাতা সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি পদে যথাক্রমে মোঃ আলমাছ উদ্দিন মোল্লা, মোঃ আরিফুল ইসলাম, চাঁন মিয়া ও সংগীতা বিশ্বাস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
অভিভাবক প্রতিনিধি পদে দুটি প্যানেল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—
১️⃣ সম্মিলিত অভিভাবক জোটের “তুরাগ প্যানেল” — প্রার্থী:
মুঃ আঃ আউয়াল মোল্লা, মোঃ আক্তারুজ্জামান, আসলাম হোসেন, মোঃ মতিউর রহমান ও মোসাঃ শাহিদা বেগম।
২️⃣ সাবেক শিক্ষক সমর্থিত প্যানেল — প্রার্থী:
মোঃ তমছের আলী, মোঃ রহিজ উদ্দীন, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ সেলিম উদ্দীন ও জাহানারা বেগম।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোঃ সাইদুল ইসলাম মিলন।
নির্বাচনকে ঘিরে দুই প্যানেলের মাঝে চলছে তীব্র প্রচারণা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের লড়াই।
২১ অক্টোবর “ভোরের আলো” পত্রিকায় তুরাগ প্যানেলের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে পরদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
অভিভাবক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন ছাত্রীর যৌন হয়রানির দায়ে বরখাস্ত হন এবং তার বিরুদ্ধে ২৩ লক্ষ টাকা আত্মসাতের মামলা এখনো চলমান। অথচ তিনিই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ ফখর উদ্দিন (রকিব) বলেন, “সাবেক প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগী আইয়ুব সরকার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারা জানেন, জনগণের মাঝে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কম, তাই মিথ্যাচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন।”
সহকারী প্রধান শিক্ষক আঃ রহমান বলেন, “এই নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নেতৃত্বাধীন টিম। শিক্ষকদের পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগই নেই।”
নবনির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, “কিছু শিক্ষক অভিভাবক ভোটার হলেও তারা প্রার্থী হতে পারেন না, তবে প্রচারণায় অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।”
প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (লিটন) বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচনকে ঘিরে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
🔸 নির্বাচন ঘিরে জনমনে উত্তেজনাবিদ্যালয়ের ইতিহাস,
মর্যাদা ও সামাজিক প্রভাবের কারণে বাঘিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন এখন পুরো এলাকাবাসীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। ভোটের দিনকে সামনে রেখে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে—কার হাতে যাবে বিদ্যালয়ের আগামী দিনের নেতৃত্ব?
দুর্নীতি রিপোর্ট ২৪.কম
অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ
✍️ প্রতিবেদন: প্রকাশক আমিনুল ইসলাম শাহীন