নঈমুল আলম,মাগুরা: মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৭৮ মেট্রিকটন চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। যার বাজারমূল্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। এই বরাদ্দকৃত চাল উঠিয়ে নেওয়া হলেও, তা পৌঁছেনি নির্ধারিত টিসিবি কার্ডধারী হতদরিদ্র উপকারভোগীদের হাতে।
ঘটনার মূল সন্দেহভাজন ওএমএস ডিলার হোসেনিয়া কান্তা ঋতু, যিনি সরকারি গোডাউন থেকে চাল উত্তোলন করলেও তা বিতরণ না করে আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৫ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগীর অনুকূলে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। জেলার খাদ্য বিভাগের ১৪১ নম্বর স্মারকের বরাতে জানা যায়, ১৫ মে ২০২৫ তারিখে মোহাম্মদপুর উপজেলাকে মোট ৭৭.৮৩৫ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা জেলার চার উপজেলার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। চাল উত্তোলনের রেজিস্ট্রার বইতেও ওএমএস ডিলারের সই রয়েছে।
জুলাই মাসে ওএমএস ডিলার হোসেনিয়া কান্তা ঋতু মোট ৫২ কেজির ১,০৫৩ বস্তা ও ৩০ কেজির ৮৫৬ বস্তা, অর্থাৎ মোট ৭৭.৮৩৫ মেট্রিকটন চাল উত্তোলন করেন ২৬ টাকা কেজি দরে। কিন্তু এই চাল ৮টি ইউনিয়নের কার্ডধারীদের মাঝে ৩০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি করে বিক্রির নিয়ম থাকলেও, অধিকাংশ ইউনিয়নের ডিলার ও উপকারভোগীরা চাল না পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট ছয়টি ইউনিয়নের ডিলার স্বীকার করেছেন তারা চাল পাননি। আর বিনোদপুর ও দীঘা ইউনিয়নের ডিলাররা চাল পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও জানিয়েছেন যে, কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়নি।
ভুক্তভোগী অনেকেই জানান, তারা তেল, চিনি ও ডাল পেলেও চাল পাননি। রাজাপুর ইউনিয়নের পারুল, শিউলী ও দীঘা ইউনিয়নের স্বপ্না জানান, জুলাই মাসে চাল বরাদ্দ থাকলেও পরিবেশক জানায় বরাদ্দ নেই।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মজনুর রহমান বলেন, “আমরা চাল বুঝিয়ে দিয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ডিলারকে চাল বিতরণের প্রমাণ হাজির করতে বলা হয়েছে। অসঙ্গতি পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, উপজেলা টিসিবি তদারকি কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রদীপ লস্কর জানান, “ডিলাররা চাল বিতরণ করেছে কি না মনে নেই। তবে সম্ভবত সই করেছি।”
এ বিষয়ে ওএমএস ডিলার হোসেনিয়া কান্তা ঋতু ও তার স্বত্বাধিকারী নূর মোহাম্মদ-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
মোহাম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনুর আক্তার জানান, “আমার জানামতে সব বরাদ্দ ঠিকঠাক দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।”
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলারের ভূমিকা, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও তদারকি কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা প্রশ্নবিদ্ধ। হতদরিদ্র কার্ডধারীদের চাল আত্মসাতের এমন ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।