নঈমুল আলমঃ খুলনা মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমে চাল ও আটা বিতরণে নতুন মনিটরিং খাদ্য কর্মকর্তাদের আগমনে স্বস্তি ফিরেছে। ডিলার ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিয়মশৃঙ্খলা নিশ্চিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে মহানগর ওএমএস কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন—শেখ মনিরুল হাসান (সহকারী রসায়নবিদ), আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়, খুলনা;মোঃ আশরাফুজ্জামান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, রূপসা, খুলনা এবং অনিন্দ্য কুমার দাশ, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, বটিয়াঘাটা, খুলনা।
খুলনা মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডে ডিলারের মাধ্যমে এবং ৪টি ওয়ার্ডে খাদ্য বিভাগের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ টন চাল ও ১ টন আটা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন নারী-পুরুষ ভুক্তভোগী জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা ক্রয় করতে পারছেন।গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত দুই থেকে তিন মাসে মহানগর ওএমএস কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত মনিটরিং কর্মকর্তাদের মধ্যে টিম লিডারের দায়িত্বে থাকা খাদ্য পরিদর্শক আবু বক্কার সিদ্দিকী বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে চাপ সৃষ্টি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষ না দিলে বরাদ্দকৃত পণ্যের ডিও না দেওয়া কিংবা তদারকি কর্মকর্তাদের ডিউটি থেকে বিরত রাখার হুমকিও দেওয়া হতো। এতে ডিলার ও ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ভয়-ভীতির মধ্যে ছিলেন।ভুক্তভোগী আসলাম, সোলেমান, রঞ্জন কুমার, আসমা খাতুন ও জোলেখা বলেন,বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত পয়েন্ট পরিদর্শন করছেন এবং আমাদের কাছে জানতে চাচ্ছেন ঠিকমতো চাল-আটা পাচ্ছি কিনা। এখন আমরা নির্ধারিত দামে ভালো মানের চাল-আটা কিনতে পারছি, এতে আমরা খুবই খুশি।”চালের গুণগত মান সম্পর্কে জানতে চাইলে ভুক্তভোগীরা জানান, বর্তমানে গুদাম থেকে সরবরাহকৃত চালের মান আগের তুলনায় অনেক ভালো।মহানগরীর ওএমএস ডিলাররা জানান, কোনো কোনো পয়েন্টে একসঙ্গে ৩ থেকে ৪ শতাধিক ভুক্তভোগী উপস্থিত হলে সকলের সম্মতিক্রমে পরিস্থিতি সামাল দিতে ৩–৪ কেজি করে চাল ও আটা বিতরণ করা হয়।তথ্য অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, সব ডিলার পয়েন্টে ভুক্তভোগীরা সুশৃঙ্খলভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চাল ও আটা সংগ্রহ করছেন।এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেন বলেন,
“মনিটরিং কর্মকর্তা ও প্রতিটি ওয়ার্ডের তদারকি কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে—প্রতিদিন বরাদ্দকৃত দুই টন চাল-আটা বুঝে নিয়ে পণ্য বিতরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পয়েন্টে উপস্থিত থাকতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত পণ্য শেষ না হয়, ততক্ষণ তদারকি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।”