নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর দক্ষিণ খান থানাধীন কাওলার নামাপাড়া এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখল করে বাউন্ডারি নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পেরিস টাওয়ার-এর মালিক মোঃ মিজানুর রহমান অল্প কিছু জমি ক্রয় করেই সরকারি ও জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তার ওপর পিলার ও বাউন্ডারি নির্মাণ করে রাস্তা কার্যত বন্ধ করে দিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌজা দক্ষিণ খান, থানা দক্ষিণ খান, কাওলার নামাপাড়া এলাকায় পানির পাম্পের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ওই স্থানে রাস্তা নির্দেশনা অনুযায়ী বাউন্ডারি ও সীমানা নির্ধারণের কথা থাকলেও হঠাৎ করেই রাস্তার মাঝ বরাবর পিলার স্থাপন শুরু করা হয়। এতে এলাকাবাসী ও পথচারীরা বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
আবাসিক এলাকায় দুইটি এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরি, রাতের ঘুম হারাম
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পেরিস টাওয়ারের ভেতরে ও আশপাশে দুটি এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে শব্দচালিত এমব্রয়ডারি মেশিন দিন-রাত চালু থাকে। ফলে এটি একটি আবাসিক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও—শিশুদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে,অসুস্থ ও বয়স্করা ঘুমাতে পারছেন না
সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে,এতসব দুর্ভোগের পরও রাস্তা দখল করে চলাচলে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী।
বাধা দেওয়ায় ‘চাঁদাবাজি মামলা’, এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিবাদ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাস্তার ওপর বাউন্ডারি নির্মাণে বাধা দেওয়াকেই কেন্দ্র করে মোঃ মিজানুর রহমান কয়েকজন নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি মামলা দায়ের করেন, যা এলাকাবাসীর মতে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এলাকার শতাধিক বাসিন্দার দাবি,
> “তিনি একটি ‘মামলাবাজ চক্র’ তৈরি করেছেন এবং বিভিন্ন সময় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে মানুষকে হুমকি-ধামকি দিয়ে চলাচল করেন।”
এলাকাবাসীর মতে, কাওলার নামাপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের অশান্তির মূল কারণ একাই মোঃ মিজানুর রহমান। তার অবৈধ কর্মকাণ্ড ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন।
প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন—
রাস্তা দখল করে নির্মিত বাউন্ডারি দ্রুত অপসারণ
আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরি বন্ধ
নিরপরাধ মানুষদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার
মামলাবাজ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা
এলাকাবাসীর প্রশ্ন,
“একজন ব্যক্তি কীভাবে গোটা একটি এলাকাকে জিম্মি করে অশান্তিতে রাখতে পারে?”
এই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।