শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
Headline
শ্রীপুরে অটোরিকশা চালককে গলা কে.টে হ.ত্যা করে দুবৃত্তরা; লা.শ ফেলে রাখে গজারী বনে রাজধানীতে হেযবুত তওহীদের গোলটেবিল বৈঠক: মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিতে ৯ দফা প্রস্তাবনা টঙ্গীতে জুুতার কারখানায় ভয়াবহ আগুন যুবদলের আগামীর নেতৃত্বে কারা? আলোচনায় আকরামুল হাসান মিন্টুসহ কয়েকজন নেতা দৌলতপুর এলাকার কিশোর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নিখোঁজ, থানায় জিডি উত্তরায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট উদ্বোধন নিরাপদ সড়ক ও যানজট নিরসনে ডিএমপির নতুন উদ্যোগ রাজউকের অনুমোদন থাকলেও মানছেনা রাজউকের কোন নিয়ম, কাওলার নয়া বাড়িতে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ  সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা মৌয়ালদের বর্ণনায় স্থানীয় ইউপি সদস‍্যের নাম গোপালগঞ্জে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ খুলনা মহানগরীতে ওএমএস এর চাল-আটা বিতরণে সন্তুষ্ট ভুক্তভোগীরা

মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সরকারি গাড়ি–জ্বালানি, উন্নয়ন প্রকল্প, ফল উৎপাদন ও শ্রমিক খাতে ভয়াবহ দুর্নীতির দাবি

Reporter Name / ২৪০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেন্টারের অফিস প্রধান ও উদ্যানতত্ত্ববিদ মোঃ শাহিনুজ্জামান (বি.সি.এস ৩৮তম)–এর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচার, হাজিরা জালিয়াতি, প্রকল্প সরঞ্জাম ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, সরকারি ফল ও চারা বিক্রির অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

🚗 সরকারি গাড়ি অকেজো রেখে ব্যক্তিগত গাড়িতে সরকারি জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অফিসে থাকা সরকারি গাড়িটি সচল থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে অকেজো করে রাখা হয়েছে। ফলে অফিস প্রধান তার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-৩৯-২২৬৬) ব্যবহার করছেন। অথচ ওই ব্যক্তিগত গাড়িতেই সরকারি বরাদ্দকৃত পেট্রোল, ওয়েল ও লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

💸 জ্বালানি ও ভ্রমণ ব্যয়ের অর্থ নিয়ে অনিয়ম

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আগস্ট মাসে হর্টিকালচার সেন্টারের জন্য—

পেট্রোল, ওয়েল ও লুব্রিকেন্ট বাবদ বরাদ্দ: ৪৫,০০০ টাকা

সরকারি গাড়ি মেরামত বাবদ: ৩০,০০০ টাকা

কৃষকসেবা নিশ্চিতকরণে ভ্রমণ ব্যয়: ৫৫,০০০ টাকা

বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সরকারি গাড়ি মেরামত না করে ওই অর্থ উত্তোলন করে ব্যক্তিগত গাড়িতে ঝিনাইদহ থেকে অফিসে যাতায়াতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সরকারি বিধি-বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

💰 উন্নয়ন ও উৎপাদন খাতে ভুয়া বিলের অভিযোগ

সেন্টারের উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মোট ৩,৯৩,৫০০ টাকা বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে—

সার: ৪৯,০০০ টাকা

কীটনাশক: ২১,০০০ টাকা

বীজ ও চারা: ১,১৫,০০০ টাকা

মনিহারি সামগ্রী: ৩৭,০০০ টাকা

মুদ্রণ: ১০,০০০ টাকা

যন্ত্রপাতি মেরামত: ৯,০০০ টাকা

অভিযোগ রয়েছে, এসব খাতে ভুয়া বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসেও একই খাতে পুনরায় বরাদ্দ নিয়ে একই অনিয়ম চলমান রয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

👥 হাজিরা জালিয়াতি ও অবৈধ লেনদেন

রাজস্ব খাতের ফার্ম লেবার আব্দুল ওয়াহেদ–এর বিরুদ্ধে ভয়াবহ হাজিরা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ২ দিন উপস্থিত থেকেও পুরো মাসের হাজিরা অক্টোবর মাসে একদিনও কর্মস্থলে না এসেও ২২ দিনের হাজিরা নভেম্বর মাসে ১৬ তারিখ পর্যন্ত অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা স্বাক্ষর সূত্রের দাবি, এসব অনিয়মে অফিস প্রধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর অবৈধ আর্থিক লেনদেন রয়েছে।

🗂️ গোপন কক্ষে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়, অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও ফার্ম লেবার মোঃ এহিয়া মিয়া–কে অফিস প্রধানের কক্ষসংলগ্ন একটি গোপন কক্ষে বসিয়ে বিল-ভাউচার প্রস্তুত, হাজিরা জালিয়াতি ও অর্থ উত্তোলনসংক্রান্ত কাজ করানো হচ্ছে, যা সরকারি শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বিধিমালার চরম লঙ্ঘন।

👷 শ্রমিক খাতে অর্থ আত্মসাত

অনিয়মিত শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪,১৫,৮০০ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এক শ্রমিক মোঃ তৌহিদুরজ্জামান ছয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে চলে গেলেও তার নামে আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১৫,৪০০ টাকা করে উত্তোলন করা হয়েছে।

🍄 মাশরুম প্রকল্প ও কৃষক প্রশিক্ষণে অনিয়ম

মাশরুম উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ২ টন ক্ষমতার এসি কৃষকদের কাজে ব্যবহার না করে অফিস প্রধান নিজের কক্ষে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া কৃষক প্রশিক্ষণে জনপ্রতি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগে প্রশিক্ষণার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

🍈 সরকারি ফল ও 🌱 চারা বিক্রির অর্থ আত্মসাত

সেন্টারের সরকারি বাগান থেকে উৎপাদিত ডাব, সফেদা, বেল, জাম্বুরা ও অন্যান্য ফল নিলাম বা রশিদ ছাড়াই ব্যক্তিগতভাবে ভোগ ও বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া মোহাম্মদপুর উপজেলায় এক কৃষকের কাছে সরকারি চারা বিক্রি করে ১,৮০,০০০ টাকা আদায় করা হলেও কোনো সরকারি রশিদ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

📞 বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস প্রধান মোঃ শাহিনুজ্জামান–এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Durnity Report tv

ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশনে রাজা মিয়ার চায়ের আড্ডায় সবাইকে আমন্ত্রণ

Theme Created By ThemesDealer.Com