আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ ৷ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ প্রেরণ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ কর এবং পূর্ণ আত্মসমর্পণের সঙ্গে সালাম দাও।”
(সূরা আল আহযাব, ৩৩:৫৬)
এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, দরূদ পাঠ শুধু কোনো নফল ইবাদত নয়, বরং এটি ঈমানদারদের জন্য ফরজ ও দায়িত্ব।
দরূদের ফজিলত সম্পর্কিত হাদীসসমূহ:
১. দরূদ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা ১০ গুণ রহমত দান করেন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। “(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৪০৮)
২. কেয়ামতের দিন নবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি-
“কেয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী সেই ব্যক্তি হবে, যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি আমার উপর দরূদ পাঠ করেছে।”
(তিরমিজি: ৪৮৪)
৩. দোয়া কবুল হওয়ার মাধ্যম- রাসূল ﷺ বলেন:
“যখন তোমরা আল্লাহর কাছে কিছু চাও, তখন আমার উপর দরূদ পাঠ করে শুরু করো ও শেষে দরূদ পাঠ করো।”
(তিরমিজি: ৪৮৬)
হাদীস থেকে বোঝা যায়, দরূদ পাঠ ছাড়া দোয়া মাঝখানে আটকে যায়— দরূদ পাঠ দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়।
৪. গুনাহ মোচনের উপায়-
“যে ব্যক্তি একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেন এবং দশটি নেকি দান করেন।”
(নাসাঈ: ১২৯৭)
৫. দুনিয়াবী চিন্তা দূর হয় ও দুঃখ দূর হয়-
এক সাহাবি বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! আমি আমার দোয়ার বেশিরভাগ অংশ আপনাকে দরূদ হিসেবে নির্ধারণ করেছি।”
নবী ﷺ বললেন: “তাহলে তোমার সব চিন্তা দূর হয়ে যাবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”
(তিরমিজি: ২৪৫৭)
দরূদের উপকারিতা সংক্ষেপে:
আল্লাহর রহমত লাভ হয়। প্রতি দরূদের বদলে ১০টি রহমত।
ফেরেশতাদের দোয়া লাভ হয়। দরূদ পাঠকারীর জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন। গুনাহ মাফ হয়। একবার দরুদ পড়লে ১০টি গুনাহ মোচন হয়।
দরূদ দোয়ার কবুল হওয়ার মাধ্যম, নবীর সান্নিধ্য ও কেয়ামতে নবীর কাছাকাছি স্থান লাভ করা যাবে এবং
চিন্তা ও দুঃখ মনঃকষ্ট দূর হয়, বরকত আসে।
-দরূদ পাঠের সময় ও আদব:
1. নামাজে তাশাহহুদের পর (আত তহিয়্যাতু ও দরূদ ইব্রাহিম)
2. জুমার দিনে অধিক পরিমাণে
3. দোয়ার আগে ও পরে
4. নবীর নাম শুনলে সাথে সাথে দরূদ পাঠ করা সুন্নত
5. ঘুমানোর আগে দরূদ পাঠ করা
সর্বোত্তম দরূদ: দরূদ ইব্রাহিম-
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)