সঞ্জু বনিক সৌরভঃ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করায় এক গৃহবধূকে ঘরে ঢুকে মারধর ও বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০) ও সাহেল খাতুন (৪০)। মামলায় আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কনিকা রায় (৩৯) গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং কুলসুম বেগম নাম ধারণ করেন। পরে দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগ করা হয়েছে, ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে মেনে না নেওয়ায় গত ১০ আগস্ট রাতে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুলসুমের ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং ধর্মান্তর ও বিয়ের হলফনামা কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোনও নিয়ে যাওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, একপর্যায়ে রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তাঁর একটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে তাঁর মাথার চুল কেটে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর তাঁর হাত-পা চেপে ধরে শরীরের সংবেদনশীল স্থানে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কুলসুমের চিৎকার শুনে তাঁর স্বামী এগিয়ে এসে তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাঁকেও মারধর করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঘরে থাকা মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মামলার এজাহারে নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং প্রায় ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরে তাঁদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে কুলসুম ও তাঁর স্বামীকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত কুলসুমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এরপর রাতেই অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাত চন্দ্র রায় মামলা ও তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।