তাছলিমা তমাঃ নিকুঞ্জ জামতলার রিকশা গ্যারেজে ডিএনসির অভিযান, ইয়াবাসহ যুবক আটক; মাদকচক্রের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ টানপাড়া জামতলা এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পর সেখানে অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ মো. শাকিল মিয়া (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএনসি সূত্র জানায়, বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (দক্ষিণ)-এর খিলগাঁও সার্কেলের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিকুঞ্জ টানপাড়া জামতলার খ-১৩২/২/বি নম্বরের রিকশা গ্যারেজ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় গ্যারেজের সামনে অবস্থানরত শাকিলকে তল্লাশি করে তার জিন্সের পকেট থেকে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ছয় হাজার টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পরে জব্দকৃত আলামতসহ তাকে খিলক্ষেত থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় ডিএনসির একজন উপপরিদর্শক বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (মামলা নম্বর-১২, তারিখ: ৬ আগস্ট ২০২৬) দায়ের করেন।
এদিকে অভিযানের পর এলাকাবাসী জানান, সংশ্লিষ্ট গ্যারেজটি নিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ছিল। তাঁদের দাবি, দিনের বেলায় এটি সাধারণ রিকশা গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও সন্ধ্যার পর সেখানে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যেত এবং মাদকসেবী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আড্ডা বসত। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তার হওয়া শাকিল এই চক্রের একজন সদস্য মাত্র। তাঁদের ভাষ্য, মাদক ব্যবসার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন এবং প্রকৃত হোতা ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে এ ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হবে না।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, গ্যারেজ পরিচালনাকারী রুবেল হোসেন, টিন মিস্ত্রি রিপন, ফুচকা শফিকুল ও জুয়ারু মাসুমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের মতে, নিয়মিত নজরদারি ও সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হয়ে উঠত না।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, নিকুঞ্জ টানপাড়া একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, যেখানে অসংখ্য পরিবার, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী বসবাস করেন। এমন এলাকায় মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ জননিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে তারা মনে করেন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অভিযান ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও কেবল একজনকে গ্রেপ্তার করেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তারা মাদকের উৎস, অর্থের জোগানদাতা, সরবরাহকারী এবং সম্ভাব্য পুরো নেটওয়ার্কের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট রিকশা গ্যারেজের বৈধতা, দীর্ঘদিনের অভিযোগের সত্যতা এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিকুঞ্জ টানপাড়া এলাকাকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত আবাসিক পরিবেশে পরিণত করা সম্ভব হবে।