তামান্না আক্তার হাসিঃ রাজধানীর আশুলিয়ায় অটোভ্যান চালক মো. সুজন হাওলাদার (২৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যার ঘটনার সংবাদ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নিহতের লুণ্ঠিত অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আসামির দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই ঢাকা জেলার দেওয়া প্রেস নোট অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. মারুফ (৩৯) ও মো. তানভীর ঢালি ওরফে আকাশ (২২)। তাদের একজন ভ্যানচালক এবং অপরজনের কাছে নিহতের অটোভ্যান বিক্রি করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই জানায়, নিহত সুজন হাওলাদার পটুয়াখালী সদর উপজেলার কুড়িপাইকা এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আগানগর এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। গত ৮ আগস্ট ২০২৬ বিকেল ৫টার দিকে অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন তিনি। রাত ৯টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার পর থেকে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন ৯ আগস্ট রাতে ও ১০ আগস্ট সকালে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর আশুলিয়া থানাধীন আশুলিয়া-আব্দুল্লাহপুর সড়কের পাশে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৮১/১ ও ৮১/২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে সুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনের অভিযোগের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. জামাল উদ্দীনকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১১ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মারুফ ও তানভীর ঢালি ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে নিহতের অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মারুফের দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অপরদিকে তানভীর ঢালি ওরফে আকাশ নিহতের অটোভ্যানটি মারুফের কাছ থেকে কেনার কথা জানান। পরে উভয় আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে প্রেস নোটে উল্লেখ করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা যায়, নিহত সুজনের সঙ্গে গ্রেপ্তার মারুফের পূর্বপরিচয় ছিল। ঘটনার দিন রাতে সুজন তার অটোভ্যান নিয়ে মারুফের সঙ্গে মোহাম্মদপুর এলাকায় দেখা করেন। পরে তারা কাশিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে মালামাল বহনের পর ঢাকার লালবাগের দিকে ফেরার পথে আশুলিয়া ব্রিজ এলাকায় অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়।
পিবিআইয়ের দাবি, গাড়ি মেরামত করতে না পেরে তারা নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অবস্থান নেন।
সেখানে ইয়াবা সেবনের পর সুজন ঘুমিয়ে পড়লে মারুফ তার অটোভ্যানে থাকা চাপাতি নিয়ে এসে প্রথমে পাথর দিয়ে সুজনের মাথায় আঘাত করেন। পরে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যার পর সুজনের অটোভ্যান নিয়ে মারুফ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে অটোভ্যানটি তানভীর ঢালি ওরফে আকাশের কাছে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদের তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।