নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভারঃ সাভারে আলোচিত এক ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়েও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে আইনি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
স্থানীয় ও মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত ছাত্রের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২ ধারা (হত্যা), ৩৪ ধারা (সম্মিলিত অপরাধ সংঘটন) এবং প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে ১০৯ ধারা (প্ররোচনা)-এর আওতায় বিচারাধীন রয়েছে। এত গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণ জনমনে বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পরও দৃশ্যমানভাবে শক্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—আইনের শাসন কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য?
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হন, তবে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য বিবেচিত হন। তবে মামলাটি বিচারাধীন থাকলে প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি নির্ভর করে আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, বিচারাধীন হত্যা মামলার আসামির প্রার্থিতা নৈতিকতা ও সুশাসনের পরিপন্থী এবং এটি ভোটারদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে সাভার জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিতর্কিত প্রার্থীদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।