জেলা প্রতিনিধিঃ খুলনা প্রেসক্লাবে বটিয়াঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শোয়েব শাত ইল ইভানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। রোববার (২১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ভেতরে থেকে তিনি একটি প্রভাবশালী শিল্প প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অবৈধ সুবিধা দিয়ে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী কালিপদ মণ্ডল। তিনি বলেন, বটিয়াঘাটা উপজেলার কিসমত ফুলতলা গ্রামে এসএ ১৯ খতিয়ান ও বিআরএস ২৫৫ খতিয়ানে তাদের পৈত্রিক ১৬০ শতক জমি রয়েছে, যা ছাড়া তাদের আর কোনো ভূমি নেই। উক্ত জমির একটি অংশ অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় অর্পিত সম্পত্তি ও ব্যক্তিমালিকানা জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।
ভুক্তভোগীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা ২৪ এপ্রিল তারিখে এবং পরবর্তীতে ভূমি মন্ত্রণালয় ২৬ জুন ও ৩ জুলাই পৃথক স্মারকে জেলা প্রশাসক খুলনাকে সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসক বটিয়াঘাটার সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সব নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত ইল ইভান নানা অজুহাতে সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রম শুরু করেননি। ১০ জুলাই নির্ধারিত তারিখে ভূমি অফিসে উপস্থিত থাকার নোটিশ দিলেও তিনি কার্যক্রম না করেই স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে ৩০ মিনিট পর কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন, যার ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এরপরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রভাবশালী জেএমআই কোম্পানিকে অবৈধ সুবিধা দিতে গিয়ে এই ভূমি কর্মকর্তা দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ভুক্তভোগীদের হয়রানি করে যাচ্ছেন। এমনকি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ১১ নভেম্বর পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হলেও এবং জেলা প্রশাসক খুলনা স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠালেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শোয়েব শাত ইল ইভান ও সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার প্রকাশ্যে ঘুষ ও দুর্নীতিতে জড়িত থেকে ভূমি সেবা প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছেন। এ অবস্থায় তারা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।