ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃ খুলনার কয়রা উপজেলার খিরোল গ্রামে পূর্বশত্রুতার জের ধরে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। কয়রা উপজেলার দশবাড়িয়া গ্রামের চিহ্নিত মাদকসম্রাট ও সন্ত্রাসী কামরুল ইসলাম সানার নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল ইয়াকুব আলী শিকারীর মুদিদোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ নভেম্বর (শনিবার) রাত আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে কামরুল ইসলাম সানা (পিতা: মৃত জিহাদুল ইসলাম সানা, গ্রাম: দশবাড়িয়া, কয়রা)–এর নেতৃত্বে ইমরান মল্লিক, টুটুল সরদার, বাচ্চু সরদার, ইসরাফিল সরদারসহ আরও ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী দলবদ্ধভাবে হামলা চালায়। এ সময় দোকান ভাঙচুর করে বিভিন্ন মালামাল লুটের পাশাপাশি নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেড় লক্ষ টাকারও বেশি বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক ইয়াকুব আলী শিকারী।
হামলার সময় বাধা দিতে গেলে ইয়াকুব আলীর স্ত্রী গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান ভুক্তভোগী ইয়াকুব আলী। তিনি বলেন,
আমি নিরুপায় হয়ে ১৪ নভেম্বর কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উকিল নিযুক্ত করে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। মামলা করার পর থেকেই সন্ত্রাসী কামরুল ইসলামের গ্যাং আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে আতঙ্কে পরিবার নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছি।
তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, লুটপাট ও ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম দাবি করেন,আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে দায় চাপানো হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমরা জড়িত নই।
এদিকে ইয়াকুব আলীর পিতা আব্দুল্লাহ আল কওছার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান,এই কামরুল ইসলাম ও তার গ্যাং আগেও আমাদের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। একের পর এক হামলার মাধ্যমে আমাদের আতঙ্কিত করছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও প্রত্যেক অপরাধীর শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।