তামান্না আক্তারঃ দেশে ভূমিকম্পের প্রকট সতর্কবার্তা জারি থাকা সত্ত্বেও রাজধানীতে ভবন নির্মাণে অনিয়ম থামছে না। দক্ষিণখান থানার কাওলার মধ্যপাড়া জামতলায় এমনই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে—যেখানে রাজউকের নিয়ম-কানুনকে উপেক্ষা করে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা যেন কেউই ভাবছে না!
কাওলার জামতলা এলাকায় এডভোকেট মোশারফের বাড়ির পিছনে শেখ ফরিদ গং নিজেদের ক্ষমতা বলয়ে রাজউকের নকশা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ৪০% জায়গা খালি রাখার নিয়ম থাকলেও তার কোন তোয়াক্কা না করেই ভবনটির ১ম তলা পর্যন্ত পুরো জমি দখল করে নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন। এখন চলছে ২য় তলার নির্মাণকাজ।
📌 রাজউকের একাধিক আইন সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন
স্থাপনা নির্মাণে নিম্নোক্ত আইনগুলো স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে—বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট-১৯৫২ টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩ ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮ বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮ অভিযোগ রয়েছে, শেখ ফরিদ গং এসব আইন জেনেশুনেই লঙ্ঘন করছেন এবং বলেন যে রাজউকের সঙ্গে তার যোগসাজশ রয়েছে, ফলে তিনি নির্বিঘ্নে ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছেন।
📌 সরেজমিনে যা দেখা গেছে
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়—নির্মাণকাজের তথ্যযুক্ত সাইনবোর্ড নেই,সেফটি নেট নেই, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই আশপাশের মানুষের জীবনহানির ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি যেখানে রাজউকের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব বিষয় বাধ্যতামূলক, সেখানে প্রকাশ্যেই তা অমান্য করা হচ্ছে।
📌 ভবন মালিকের চ্যালেঞ্জিং মন্তব্য
ভবন মালিক শেখ ফরিদ বলেন “প্রথম তলার কাজ শেষ করে দ্বিতীয় তলার কাজ করছি। প্রতিদিনই রাজউকের ইন্সপেক্টর আসে। যোগসাজশ না থাকলে কি আমি এতদূর কাজ করতে পারতাম? নিউজ করতে পারেন, দেখুন আমার কিছু করতে পারেন কিনা।”
এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন এবং এরপর আর ফোন রিসিভ করেননি।
📌 জোনাল ইন্সপেক্টরের বক্তব্য
জোনাল ইন্সপেক্টর জানান—তিনি মালিকপক্ষকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন এখনো নকশা জমা দেওয়া হয়নি মালিকপক্ষ সাড়া না দিলে নোটিশ জারি করা হবে।
রাজউকের মোবাইল কোর্ট প্রস্তুত রয়েছে যেকোনো সময় ভবনটিতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
📌 ভূমিকম্প সতর্কতার সময় এই অনিয়ম ভয়াবহ হুমকি
বর্তমান ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে নকশাবহির্ভূত ভবনগুলো যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এতে বাসিন্দা, শ্রমিক এবং আশপাশের মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।