তাছলিমা তমাঃ রাজধানীর বিমানবন্দর থানা এলাকা একসময় জাল টাকা, চোরাচালান, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধীদের অবাধ বিচরণের জায়গা হিসেবে কুখ্যাত ছিল। পার্কিং লট, টার্মিনাল ভবনের পাশ, কাস্টমস হাউস এলাকা কিংবা ক্যান্টিন চত্বর—যেখানেই চোখ রাখা হতো, সেখানেই ছিল অপরাধীদের দাপট। প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন, ছিনতাই, টিকিট কালোবাজারি—এসব যেন ছিল প্রতিদিনের দৃশ্য।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ঘুরে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পরিবেশ। আগের ভয়ংকর পরিস্থিতির ছিটেফোঁটাও আর নেই।
🔹 স্টেশনে গাঁজা–ছিনতাইয়ের দিন শেষ
বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একসময় সহজেই গাঁজা পাওয়া যেত, এখন সেখানে নিয়মিত পুলিশের টহল দেখা যায়। ছিনতাইকারীদের আড্ডাস্থল হয়ে ওঠা ঝোপঝাড়গুলোও এখন অপরাধমুক্ত।
🔹 টিকিট কালোবাজারি কমে এসেছে
রেলওয়ে টিকিট কাউন্টার ও আশপাশের এলাকায় কালোবাজারি অনেকটাই কমে এসেছে। যে স্থানগুলোতে আগে ভয় পেয়ে চলতে হতো, এখন সেখানে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের চলাচল দেখা যায়।
🔹 গাঁজার গন্ধে ভরা এলাকা এখন নিরাপদ
সিভিল এভিয়েশন স্টাফ কোয়ার্টারের আশপাশের যে সব স্থান একসময় গাঁজার গন্ধে ভারী হয়ে থাকত, সেগুলোতেও এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত।
🔹 হকার দৌরাত্ম্য কিছুটা রয়ে গেছে
তবে ফুটপাত দখল করে হকারদের আগ্রাসন আগের মতোই জায়গা করে আছে—যা এখনো এলাকাবাসীর জন্য বিরক্তিকর।
🔹 হিজড়া ও ভাসমান যৌনকর্মীদের উপস্থিতিও কমেছে
বলাকা ভবন ও থার্ড টার্মিনাল এলাকায় সন্ধ্যার পর হিজড়া ও ভাসমান যৌনকর্মীদের যাতায়াত এখন আর আগের মতো দেখা যায় না।
এক কথায়—বিমানবন্দর থানা এলাকায় বিগত সময়ের তুলনায় আইন–শৃঙ্খলার চিত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
🗣️ ওসির প্রতিক্রিয়া
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাসলিমা বলেন—
“আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরই অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডগুলো নজরে আসে। এরপর সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি সেগুলো বন্ধ করতে। কতটুকু সফল হয়েছি তা এলাকাবাসীই ভালো বলতে পারবেন।”
✍️ প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম শাহীন