তাছলিমা তমাঃ রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন আশকোনা তিন নম্বর রোডে মসজিদের পাশে রাজউকের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ। রাজউকের অনুমোদন অনুযায়ী ৫ কাঠা জমিতে নির্দিষ্ট নকশা ও আইন মেনে ভবন নির্মাণ করার কথা থাকলেও প্রভাবশালী খোকন গাজি (আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সিরাজ মিয়ার জামাই) আইনকে তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণ করছেন।
সূত্র জানায়, রাজউকের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণে ৪০% জায়গা খালি রাখা বাধ্যতামূলক হলেও তিনি তা অমান্য করে ইতিমধ্যে ৩ তলা পর্যন্ত কাজ শেষ করেছেন এবং ৪ তলার নির্মাণ কাজও চলছে পুরোদমে।
ভবন নির্মাণের সময় “ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২”, “টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৩”, “ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮” এবং “বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০”-এর একাধিক ধারা সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে— ভবনটিতে বাধ্যতামূলক তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড বা সেফটি নেট নেই। জায়গা অনুযায়ী প্রতি তলায় ২১৬০ স্কয়ার ফিট নির্মাণের অনুমতি থাকলেও মালিক খোকন গাজী নির্মাণ করেছেন প্রায় ২৬০০ স্কয়ার ফিট করে। অর্থাৎ প্রতি তলায় প্রায় ৫০০ স্কয়ার ফিট অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে।
ভবন মালিক খোকন গাজিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং বলেন,
> “আমি ৩ তলা শেষ করে ৪ তলার কাজ করছি, তুই কে সাংবাদিক যে তোকে তথ্য দিতে হবে?”পরে তিনি সাংবাদিককে মামলা করার হুমকিও দেন।
ঘটনার বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট জোনাল ইন্সপেক্টর জানান,
> “আমি ভবন মালিককে একাধিকবার নোটিশ দিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো জবাব দেয়নি। আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। যেকোনো সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।”
তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইন্সপেক্টরদের ঘুষ দিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই এসব ভবন মালিকরা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে ফেলছেন। রাজউকের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে চলছে এই অবৈধ নির্মাণের মহোৎসব।
রাজধানীর নিরাপত্তা, জনজীবন ও নগর পরিকল্পনার স্বার্থে এসব বেআইনি ভবনের বিরুদ্ধে রাজউক কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, এখন তা-ই দেখার অপেক্ষা।